সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাইবেল থেকে গসপেল অফ বার্নাবাস (The Gospel of Barnabas) কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো?


জানেন কি, বাইবেল থেকে গসপেল অফ বার্নাবাস (The Gospel of Barnabas) কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো?


সেইন্ট বার্নাবাস, প্রকৃত নাম জোসেফ (ইউসুফ) ছিলেন হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম (খ্রিস্টানরা বলে যীশু) উনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর ও ওহী লেখক। তিনি হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ধর্মপ্রচার স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে সরাসরি অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ করেন যা বর্তমানে চারটি স্বীকৃত গসপেলের রচয়িতাদের কারও ছিল না।


বর্তমান খ্রিষ্টান জগতে বার্নাবাসের বাইবেলের কোন পরিচিতি নেই, বরং নিষিদ্ধ। সংগত কারনেই খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরা এই বাইবেলের ঘোর বিরোধী কারণ এই বাইবেল ছিল আখেরী রাসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন এবং উনার প্রশংসা মুবারকে পরিপূর্ণ।


ঐতিহাসিকদের মতে ৩২৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত এন্টিওক এবং আলেকজান্দ্রিয়ার গীর্জা সমূহে বার্নাবাসের বাইবেল আইন সম্মত গ্রন্থ হিসাবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু ৪৯৬ খৃষ্টাব্দে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।


কেন তারা এই বাইবেল নিষিদ্ধ করেছিলো?


১। পুরো গসপেল অফ বার্নাবাস জুড়ে আছে পবিত্র কুরআন শরীফের সাথে সামঞ্জস্যশীল উপদেশবাণী এবং আখেরী রাসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন সম্পর্কে পূর্বাভাষ।


২। তিনি হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উর্ধ্বগমনের পর তার উম্মতেরা তাঁকে রব বলে দাবী করবে।


৩। এতে স্পষ্ট বলা আছে যে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি একজন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, পুত্র নন।


যেমনঃ

"Cursed be every one who shall insert into my sayings that I am the son of God" (53:6)


Jesus answered: "And you; what say you that I am?" Peter answered: "You are Christ, son of God". Then was Jesus angry, and with anger rebuked him, saying: "Begone and depart from me, because you are the devil and seek to cause me offences" (70)


৪। এতে আছে বর্তমান খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের বিপরীতে একত্ববাদ।


৫। হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


৬। সরাসরি আখেরী রাসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করে প্রশংসাবাণী ও আগমনের পূর্বাভাষ রয়েছে।


যেমনঃ


"Muhammed is his blessed name" ' (ch. 97)


“But when Muhammed shall come, the sacred messenger of God, that infamy shall be taken away” (Gospel of Barnabas, para 112).


এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ উল্লেখ করে ইরশাদ করেন-

" আমি এমন একজন সম্মানিত রাসূল (ﷺ) উনার মুবারক আগমনের সুসংবাদদানকারী, যিনি আমার পরে পৃথিবীতে তাশরীফ আনবেন, উনার সুমহান নাম মুবারক হচ্ছেন "আহমদ" (ﷺ)। ” (সূরা ছফ : ৬)

#90DaysMahfil

SM40.COM

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

*Coca-cola is Haram for Muslim

Because Coca-Cola and Other Soft Drinks may Contain ALCOHOL. Read Details here:~~~~ COCA-COLA: THE REAL THINGS? The proportions in the accompanying recipe are based on the analyses of Coke quoted above and Merory's recipes. The amount of caffeine agrees with that stated in Coca-Cola's So you asked about soft drinks... pamphlet; this is about a third of the caffeine found in the trial analyses. The following recipe produces a gallon of syrup very similar to Coca-Cola's. Mix 2,400 grams of sugar with just enough water to dissolve (high-fructose corn syrup may be substituted for half the sugar). Add 36 grams of caramel, 3.1 grams of caffeine, and 11 grams of phosphoric acid. Extract the cocaine from 1.1 grams of coca leaf ( Truxillo growth of coca preferred) with toluol; discard the cocaine extract. Soak the coca leaves and kola nuts (both finely powdered; 0.37 gram of kola nuts) in 22 grams of 20 percent alcohol. California white wine fortified to 20 percent strengt...

যে সকল শব্দ মুসলমানদের ব্যবহার করা উচিত নয়

শব্দ ব্যবহারের কুচিন্তায় যোগসাধনের ষড়যন্ত্র ইহুদী খ্রিস্টানদের ঐতিহ্যগত প্রবৃত্তি। স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়ও ইহুদী খ্রিস্টানদের এরূপ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার ছিল। কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রঈনা বলো না উনজুরনা বলো এবং শ্রবণ কর (বা শুনতে থাক) আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা বাক্বারা ১০৪) আয়াতের শানে নযুলে বলা হয়েছে, ইহুদীরা রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেবার জন্য ‘রঈনা’ শব্দ ব্যবহার করত, যার একাধিক অর্থ। একটি অর্থ হল ‘আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন’ যা ভাল অর্থে ব্যবহার হয় আর খারাপ অর্থ হল ‘হে মূর্খ, হে মেষ শাবক’ এবং হিব্রু ভাষায় একটি বদদোয়া। ইহুদীরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রঈনা বলে সম্বোধন করত। যাতে প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ‘রঈনা’ শব্দের ভাল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করত। এতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলা...

উশরযোগ্য ফল-ফসলের বিধান

উশর কি?  পবিত্র ‘উশর’ শব্দটি আরবী আশরাতুন (দশ) শব্দ হতে উৎসরিত বা উৎকলিত হয়েছে। উনার আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হলেন এক দশমাংশ। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় কৃষিজাত পণ্য- ফল ও ফসলের পবিত্র যাকাত উনাকে পবিত্র উশর বলে। এক কথায়, উৎপাদিত ফল ফসলের যাকাতই হচ্ছেন পবিত্র উশর। পবিত্র উশর সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীলঃ পবিত্র উশর সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার একাধিক পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- وانفقوا من طيبات ماكسبتم ومـما اخرجنا لكم من الارض. অর্থ : “তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল সম্পদ হতে এবং যা আমি তোমাদের জন্য যমীন হতে উৎপন্ন করিয়েছি তা হতে দান করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬৭) তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-  واتوا حقه يوم حصاده অর্থ : “ফসল কাটার সময় তার হক (পবিত্র উশর) আদায় করো।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪১) উশর সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরীফে যা বর্ণিত রয়েছে:  এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস শরীফ পাওয়া যায়। তার মধ্যে ২টি পবিত্র হাদী...